Skip to main content

Posts

Showing posts with the label Travel

ভারতকল্প ৪- কালকা, আজকে এবং কালকে!

জানুয়ারী ২৯,২০১৭, শ্যামলী, ঢাকা। দুপুর সাড়ে ৩ টা। অনিশ্চয়তা। “ধুর ব্যাটা, তুই যদি ট্রেনটাই মিস করলি তাহলে তো বিশাল একটা জিনিস কোনদিন জানলিই না” প্রত্যয় ভাই যখন শ্যামলীতে আমাকে এই কথাগুলো বলছেন তখনো আমার ভিসা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা। বিশাল মানসিক অশান্তি চলছে মনের মধ্যে এটা ভেবে যে, জীবনের সবচেয়ে বড় জার্নিতে অন্য সবার সাথে শুরু করার ব্যাপারটা আমার নাও হতে পারে। কোথাকার কোন ট্রেন মিস হয়ে যাবে এই চিন্তা তখন অনেক দূরের ব্যাপার। ফেব্রুয়ারী ১,২০১৭। হাওড়া। কলকাতা। রাত ৮ টা। দেরী। অনেক আগে ছোট থাকতে আব্বুর মুখে শুনতাম কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশান চালু হবার পর ঢাকার অলিতে গলিতে এক শহুরে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সেই গুজব হচ্ছে কমলাপুর স্টেশান এশিয়ার সবচেয়ে বড় স্টেশান। সেই গুজব এর অবসান কীভাবে হয়েছিল আমার জানা নেই। তবে কমলাপুর স্টেশানকে আদতেই বড় স্টেশান ভাবার মধ্যে যে সীমিত জ্ঞানগত ভুল আছে তা আমার ভেঙ্গে গেল এই সন্ধ্যায়। ভারতবর্ষে আগে আসা হলেও হাওড়া স্টেশান আগে দেখার কোন কারণ হয় নি। কলকাতাবাসী অবশ্য দাবী করেনা দেরী। এশিয়ার সবচেয়ে বড় স্টেশান। তবে সন্দেহাতীতভাবে হাওড়া ভারতবর্ষের সবচেয়ে বড় রেলওয়ে বিশ্রামাগার...

ভারতকল্প ৩.১- ভুতুড়ে স্বাধীনতা!

চন্ডীগড় শহরে স্থাপত্য দেখার ব্যাপারটা প্রায় কর্তব্য। সেই কর্তব্য পালনের ছকের মধ্যে আরেক কর্তব্য ছিল সেখানকার আর্কিটেকচার স্কুল ঘুরে দেখা। এই দেখার ফাকে একজন শিক্ষক জানতে চেয়েছিলেন- “এই যে ৪০-৪২ দিনের ভারত দেখে বেড়ানোর বিশাল আয়োজন, এর মধ্যে কোন শহরে কতদিন বরাদ্দ?” ৪০ দিনের বাধা ছকে গোয়া’র জন্য বরাদ্দ পাঁচদিন শুনেই মুখ টিপে হেসেছিলেন অনেকে। গোয়া যেন ভারত মহাসাগরের তীরে স্বাধীনতার ডাক (ছবিঃ সেহরান পারভেজ সিয়ান) আমরা ভারতবর্ষে প্রথম ঘুরতে আসা স্থাপত্য ব্যাচ নই। এই ঐতিহ্য ঠিক কতদিনের পুরাতন তা নিয়ে বেশ একটা ধোয়াশা আছে। তবে বছরের হিসাবে ৩০ এর কম তো নয় ই। এমনকি আমাদের সবচেয়ে প্রবীণ শিক্ষক ও তার ভারতভ্রমণ এর রেফারেন্স টানেন ঐতিহাসিক স্থাপত্য পড়াতে। গোয়া শহর নিয়ে শুধু চন্ডীগড়ের শিক্ষকেরা নন শুধু আমাদের নিজেদের মধ্যেও বাড়তি উত্তেজনা স্পষ্ট। গোয়া হচ্ছে- স্বাধীনতার নগর! মুম্বাই এর মত কসমোপলিটান নয়, কক্সবাজারের মত বিশ্বের বৃহত্তম সৈকত ও নয়, গোয়া শহর এর স্বাধীনতা একটা সাগরকণ্যা ছোট শহরে দাঁড়িয়ে সাগরপাড়ের জীবনের সর্বোচ্চ স্বাধীনতার হাতছানি! কী না কী হবে সামনে! কত কত গল্প শুনে যাচ্ছি, তা...

টাইগার্স নেস্টঃ পাইন বনের লোকগাথায়

-“যখন কিওক্রাডং এ উঠি ২০১২ সালে আসলে এত সময় লাগে নি” কথাটা স্বগোতক্তির মত বললেও অর্থীকেই বলা। অর্থী চার বা পাঁচ কদম সামনে পরের বাঁকটার কোন বিকল্প পথ আছে কী না খুঁজতে ব্যস্ত। আমরা উঠছি “টাইগার্স নেস্ট” এর চুড়া বরাবর। ভূটান আসার আগে ভূটান নামে লিখে গুগলে অনুসন্ধান চালাই বা পোস্টকার্ড বই এর মারফতে যাই জানতে চেষ্টা করি এই টাইগার্স নেস্ট আসবেই। পারো এমনিতেই তর্কসাপেক্ষে ভূটান এর সবচেয়ে সুন্দর শহর। তার সাথে টাইগার্স নেস্ট এ ওঠার বাসনাতে এই মৌসুমে প্রচুর ভ্রমণ পিপাসু লোকজন পারোতে ভিড় জমিয়েছে। আমরা ৩২ জন ও সেই ভিড় এর ই অংশ এবং এই মুহূর্তে ৩২ জনই ভূটানে আসার সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি পূরণ করতে ব্যস্ত। এর মধ্যে দেখলাম অর্থী বিকল্প রাস্তা না পেয়ে বাঁকটা পুরো হেঁটে ওঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমিও তাই করলাম। আমাদের দুজনের জন্য আসলে পায়ে হেঁটে উপরে ওঠার চেষ্টাটা আসলে গোয়ার্তুমি অনেকের চোখে। আমাদের কাছে এটা একটা ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ এর মত। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ঝাড়া তিন হাজার মিটার উঁচুতে জায়গাটা। পারো ভ্যালির যে জায়গাটা থেকে আমরা এই যাত্রা শুরু করেছি সেখান থেকেও উঠতে হবে প্রায় তিন হাজার ফুট। জিপিএস এর মা...

ভারতকল্প-২- নীলরঙ্গা যোধপুর!

১০ দিন আগে মানালিতে মাইনাস ১৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পাচ ছয়টা জ্যাকেট পড়ে কাঁপাকাঁপি চলছিল। মাত্র ১০ দিন! বাসের জানালার বাইরে এখন সোনালি আভা চকচক করছে। হাফ হাতা টি শার্ট পড়ে এসির বাতাসে কাঁপছি একটু একটু ঠিকই। কিন্তু সোনালী রোদ আর বালু মিলে মিশে চোখের দেখার জন্য পরিবেশ তৈরি করছে তাতে ঠান্ডার লেশমাত্র নেই।১০ দিনে বরফ থেকে মরু চলে আসার ব্যাপারটা এতটাই আশ্চর্যজনক যে, শত চিন্তা করে ভারতবর্ষ কত বড় ব্যাপারটা মাথায় ঢুকতে চেয়েও চায় না। পথে কোন জনমানব নেই। জীবনের অস্তিত্ব জানান দিতেই মাঝে মাঝে দুই চারটি মরুভূমির ছাগল উকি দিচ্ছে বাসের আশেপাশে। আমি আগে কখনো মরুভূমি দেখিনি। জীবনে এই ই প্রথম। ধূ ধূ সোনালী প্রান্তর এ হারিয়ে যাচ্ছে দৃষ্টি আর চিন্তার সীমানা। দু চারটা কাঁটা জাতীয় গাছের অস্তিত্ব সেই পথে বাধা দিতে পারছে না। রাজস্থান এর সাথে আমার পরিচয় “হঠাৎ বৃষ্টি” ছবির সাথে সাথে। লাল পাগড়ি পড়া ফেরদৌস এর উটে চড়ে যাওয়া আর “সোনালি প্রান্তরে, ভোমরার গুঞ্জনে...” গানে আমার বয়সীরা তো বটেই, সব বয়সের বাঙ্গালীর জন্যই রাজস্থান একটা রোমান্টিক স্বপ্নের মত। আমার মনে সেই সিনেমা থেকেই অনেক অনেক প্রশ্ন। আসলেই...

ভারতকল্প-১- রাজধানী এক্সপ্রেসঃ নিজামউদ্দিনের শহর!

“রাস্তা থামায় দিল, রাস্তা থামায় দিল আউলিয়া... এল দিল্লীতে নিজামউদ্দিন আউলিয়া এলো...” চন্ডিগড়ের রাস্তা থেকে দিল্লীর বুকে যখন পা রেখেছি তখন আড়াইটার ঘর পার হয়ে মিনিট এর কাঁটা রাত তিনটার দিকে যাত্রা শুরু করেছে। বাসে চলতে থাকা বাংলা গান এর লাইনগুলো মাথার মধ্যে কেন বেজে চলেছে তার কারণ ভাবতে ইচ্ছা করছে না। মানসিকভাবে একটু বিরক্ত লাগছে কারন এই দুই লাইনের পরের দুই লাইন ঘুমে জড়সড় চোখ নিয়ে মনে আসতে চাইছে না । কেমন একটা ঘোরলাগা অবস্থা। দিল্লীর পাহাড়গঞ্জ এর আরাকাশান রোড এর হোটেলগুলো ঘুমিয়ে পড়েছে। শুধু ঘুমায় না তাঁদের গায়ে লেগে থাকা নিয়ন বাতিগুলো। ঘোরলাগা- মন মানসিকতা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে সেগুলোর চোখে পীড়া দেয়া লাল, নীল সবুজ রঙ। আধাঘন্টার মধ্যে কীভাবে হোটেল এ ৪৪ জন মানুষের চেক ইন, লাগেজ রুমে রুমে পৌছে দেয়া হয়ে গেল টের ও পেলাম না। রুম শেয়ার এর চার্ট আগে থেকেই করা থাকায় কিছুক্ষণ পরেই মাঘ মাসের ত্রাহি ত্রাহি শীতের মধ্যে কম্বলের আরাম এ তলিয়ে গেলাম। আগামীকাল দিল্লী অভিযানে বের হওয়া হবে হয়তো। সকালে উঠে একটা প্ল্যান করতে হবে। অনেক নাকি দেখার জায়গা। এসব বিচ্ছিন্ন চিন্তাভাবনাতে এলোমেলো হয়ে ঘুমিয়ে গেলাম। ...